BREAKING NEWS
Showing posts with label করোনা ভাইরাস. Show all posts
Showing posts with label করোনা ভাইরাস. Show all posts

Friday, May 15, 2020

ভৈরবে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত ৭ জন, মোট আক্রান্ত ৫৯ জন।

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) নতুন করে আরও ০৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ বুলবুল আহমেদ। তিনি ভৈরব উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্যসচিব।

গত ১১/০৫/২০২০ তারিখে ভৈরব উপজেলার করোনা আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসা ৩৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। তাদের মধ্যে আজ ৭ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এবং ২৮ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ।

প্রসঙ্গত, এখন পর্যন্ত ভৈরব উপজেলা থেকে মোট ৫৪৫ জনের নতুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৯ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে এবং ৪৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে জানা গেছে। তাছাড়া গত ১২ মে এবং ১৩ মে'র সংগ্রহকৃত নমুনার রিপোর্ট এখনো পেন্ডিং আছে।

Saturday, May 9, 2020

এবার আক্রান্ত পুরুষের শুক্রানুতেও মিলল করোনা!

করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব। চীনের উহানে চার মাসে আগে তাণ্ডব শুরু করে এই ভাইরাস। বর্তমানে চীনের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বব্যাপী ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে করোনা। ইতোমধ্যে এই ভাইরাস বিশ্বের ২১২টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।

এসব দেশে এখন পর্যন্ত (শুক্রবার বেলা সোয়া ১১টা) আক্রান্ত হয়েছে ৩৯ লাখ ১৭ হাজার ৯৪৪ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার ৭৪০ জনের।

করোনাভাইরাস এতটাই ভয়ঙ্কর যে বিজ্ঞানীরা এর অস্তিত্ব খুঁজে  পেয়েছেন আক্রান্ত পুরুষের শুক্রানুতেও। চীনের গবেষকরা এ তথ্য জানিয়েছেন। সে অনুসারে, শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ানোর শঙ্কা আরও প্রকট আকারে দেখা দিয়েছে।

তবে আক্রান্ত পুরুষের শুক্রানুতে কী পরিমাণ ভাইরাসের উপস্থিতি দেখা গেছে এবং শারীরিক সম্পর্কের ফলে করোনা সংক্রমণ ঘটতে পারে কি না, সে ব্যাপারে গবেষকরা এখনও কোনও তথ্য প্রকাশ করেননি।

চিকিৎসা বিষয়ক জার্নাল জামা নেটওয়ার্ক গবেষণাটির ফলাফল প্রকাশ করেছে। চীনের শাংকিউ মিউনিসিপ্যাল হসপিটালের গবেষকরা এ ব্যাপারে গবেষণাটি করেছেন।

শুক্রানুতে করোনাভাইরাস থাকার ব্যাপারে গবেষণার ফল এটাই প্রথম পাওয়া গেল। করোনা পজিটিভ হলে নিরাপদ শারীরিক সম্পর্কের বিষয়গুলো কেমন হবে, তা জানার জন্য নতুন গবেষণা দরকার বলে মনে করছেন গবেষকরা। সেই সঙ্গে বলা হয়েছে, এই গবেষণা পরবর্তীতে করোনা সম্পর্কিত শারীরিক সম্পর্কের বিষয়ে গবেষণার পথ উন্মোচন করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) চীফ মেডিকেল অফিসার জন ব্রুকস মনে করেন, এটা চমৎকার ফল। তবে তিনি মনে করেন, এর অর্থ এই নয় যে শুক্রানু সংক্রামক হয়ে উঠবে।

তিনি আরও বলেন, যখন আমরা সবখানে এই ভাইরাসটি দেখছি, শরীরের বিভিন্নখানেই এর উপস্থিতি রয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তির অবস্থানস্থলেও এই ভাইরাস পাওয়া যাচ্ছে। সে কারণে এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা কঠিন।

সিডিসির গবেষকরা মনে করেন, আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি থেকে ছড়ানো ড্রপলেটের মাধ্যমে করোনাভাইরাস অন্যদের শরীরে সংক্রমণ ঘটায়। শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে আরো নির্দিষ্ট করে বললে শুক্রানুর মাধ্যমে করোনা সংক্রমণের প্রমাণ তারা পাননি। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, সিএনএন

বিশ্বব্যাপী ৪০ লাখ ছাড়াল করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা

বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। ওয়ার্ল্ডো মিটারে সর্বশেষ আপডেটকৃত তথ্য বলছে, এখন পর্যন্ত ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে ৪০ লাখ ১২ হাজার ৮৩৭ জনের শরীরে।

এছাড়া ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ২ লাখ ৭৬ হাজার ২১৬ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১৩ লাখ ৮৫ হাজার ১৪১ জন।

বর্তমানে ভাইরাসটির উপস্থিতি রয়েছে ২৩ লাখ ৫১ হাজার ৪৮০ জনের শরীরে। এদের মেধ্য ২৩ লাখ ২ হাজার ৭৮১ জনের সংক্রমণ মৃদু এবং ৪৮ হাজার ৬৯৯ জনের অবস্থা গুরুতর।

সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত দেশ যুক্তরাষ্ট্রে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে ১৩ লাখ২১ হাজার ৭৮৫ জনের শরীরে। দেশটিতে এ প্রাদুর্ভাবে মারা গেছেন ৭৮ হাজার ৬১৫ জন।
বাংলাদেশে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে ১৩ হাজার ১৩৪ জনের শরীরে এবং মারা গেছেন ২০৬ জন।

Friday, May 8, 2020

বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ৩৯ লাখ ১৬ হাজার

বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩৯ লাখ ১৬ হাজার ৩৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। ২১২টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাস শুক্রবার (৮ মে) সকাল ৯টা পর্যন্ত ২ লাখ ৭০ হাজার ৭১১ জন মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়ার্ল্ডোমিটারে এ সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে।


আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৩ লাখ ৪৩ হাজার ৫৪ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ২৩ লাখ ২ হাজার ৫৭৩ জন। এদের মধ্যে ২২ লাখ ৫৩ হাজার ৬১৫ জনের শরীরে মৃদু সংক্রমণ থাকলেও ৪৮ হাজার ৯৫৮ জনের অবস্থা গুরুতর।

ভাইরাসটির আক্রমণে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা প্রভাবশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৭৬ হাজার ৯২৮ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ১২ লাখ ৯২ হাজার ৬২৩ জন।

মৃতের সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের পরের অবস্থানে উঠে এসেছে যুক্তরাজ্য। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩০ হাজার ৬১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৬ হাজার ৭১৫ জন।
মৃত্যুর তালিকার তিন নম্বরে রয়েছে ইউরোপের দেশ ইতালি। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২৯ হাজার ৯৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৮ জন।

এর পরের অবস্থানেই রয়েছে স্পেন। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২৬ হাজার ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে অবশ্য ২য় অবস্থানে রয়েছে এ দেশটি। এখানে ২ লাখ ৫৬ হাজার ৮৫৫ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

মৃত্যুর তালিকায় এর পরের অবস্থানে রয়েছে ফ্রান্স। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২৫ হাজার ৯৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৯১ জন।

এদিকে জার্মানিতে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৪৩০ জন মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৭ হাজার ৩৯২ জনের। তুরস্কে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭২১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এখানে মৃত্যু হয়েছে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি মানুষের। রাশিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৭৭ হাজার ১৬০ জন, মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৬২৫ জনের। কানাডায় আক্রান্তের সংখ্যা ৬৪ হাজার ৯২২ জন, মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৪০৮ জনের।

ভাইরাসটি প্রথম শনাক্ত হয় চীনে। সেখানে এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৮২ হাজার ৮৮৬ জন এবং মারা গেছেন ৪ হাজার ৬৩৩ জন।

এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে ইরানে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৩ হাজার ১৩৫ জন। মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ৪৮৬ জনের।

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে ১২ হাজার ৪২৫ জনের শরীরে। এদের মধ্যে মারা গেছেন ১৮৬ জন এবং সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ১৫৩৩ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১০ হাজার ৭০৬ জন।

ডিসেম্বরে চীনে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেলেও বাংলাদেশে ভাইরাসটি শনাক্ত হয় ৮ মার্চ। ওইদিন তিন জন করোনা ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত শনাক্তকৃত রোগীর সংখ্যা অনেকটাই সমান্তরাল ছিল। কিন্তু এরপর থেকে বাড়তে থাকে রোগীর সংখ্যা।

করোনায় মৃত্যুর সঙ্গে ভিটামিন ডি-র সম্পর্ক রয়েছে, বলছেন গবেষকরা

ইউরোপের দেশগুলোতে করোনাভাইরাসে বেশি সংখ্যক মানুষের মৃত্যু এবং জনগণের শরীরে কম পরিমাণ ভিটামিন ডি থাকার মধ্যে সম্পর্কের বিষয়ে নতুন এক গবেষণায় জানা গেছে।

ইংল্যান্ডের ক্যামব্রিজে অবস্থিত অ্যাঙলিয়া রাসকিন ইউনিভার্সিটির গবেষক ডা. লি স্মিথ এবং কুইন এলিজাবেথ হসপিটালের ডা. পিটার ক্রিস্টিয়ান ইলি এ ব্যাপারে গবেষণা করেন। এজিং ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড এক্সপেরিমেন্টাল জার্নালে তাদের গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

তাতে বলা হয়েছে, শরীরে ভিটামিন ডি কম থাকার কারণে দ্রুত ভাইরাসের দ্বারা আক্রান্তের শঙ্কা থাকে। শ্বেত রক্ত কণিকা প্রাণবন্ত করে তোলার কাজ করে ভিটামিন ডি। কিন্তু শরীরে এর মাত্রা কম থাকলে ভাইরাস দ্রুত সংক্রমণ ঘটায়। করোনাভাইরাস মূলত রোগীদের শরীরে ভিটামিন ডি এর পরিমাণ কম থাকার সুযোগ নিচ্ছে।

ইতালি এবং স্পেনে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হার বেশি। এই গবেষণায় দেখা গেছে, উত্তর ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ওই দুই দেশের মানুষের শরীরে ভিটামিন ডি এর পরিমাণ কম। কারণ, হিসেবে গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, সেসব দেশে বয়স্ক ব্যক্তিরা সূর্যের আলোতে সেভাবে থাকতে চান না। সে কারণে প্রাকৃতিক ভিটামিন ডি থেকে তারা বঞ্চিত হন।
সূর্যের আলোতে থাকতে অনীহার কারণে শরীরে গড় ভিটামিন ডি সেসব দেশের মানুষের কম। ডা. লি স্মিথ বলেন, ইউরোপের ২০টি দেশে আমরা পরিসংখ্যান চালিয়ে দেখেছি, যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে, তাদের শরীরে ভিটামিন ডি কম।

তিনি আরো বলেন, ভিটামিন ডি পারে করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে। যাদের শরীরে ভিটামিন ডি এর উপস্থিতি কম, করোনা আক্রান্ত হলে তাদের পরিস্থিতি জটিল হয়ে যাচ্ছে। যারা গুরুতর আক্রান্ত অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছে, তাদেরও ভিটামিন ডি এর অভাব দেখা যাচ্ছে।

সূত্র : এআরইউ

করোনা সংক্রমণের সময় নিয়ে নতুন তথ্য

চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে প্রথমে ছড়িয়ে পড়ে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। সময়টা বলা হচ্ছিল গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে। কিন্তু এখন যুক্তরাজ্যের গবেষকেরা বলছেন, অক্টোবরের প্রথম দিক থেকে করোনার প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে থাকতে পারে। সারা বিশ্ব থেকে সংগ্রহ করা ভাইরাসটির সাত হাজার জিনোম সিকোয়েন্সের ক্রম বিশ্লেষণ করে এমন তথ্যই পেয়েছেন তাঁরা।
বিজ্ঞানীদের ওই গবেষণার সংক্ষিপ্ত নিবন্ধন গত মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে। প্রখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী ইনফেকশন, জেনেটিকস অ্যান্ড ইভালুয়েশন-এর আগামী সংস্করণে গবেষণার পুরো নিবন্ধন প্রকাশিত হবে। ওই নিবন্ধনমতে, করোনার জীবাণু যেটি সার্স-কোভ-২ নামে পরিচিত, সেটি সম্ভবত গত বছরের ৬ অক্টোবর থেকে ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে যেকোনো সময়ে প্রাথমিক বাহক থেকে মানুষের শরীরে চলে আসে।

করোনার সাত হাজার জিনোম সিকোয়েন্সের ক্রম বিশ্লেষণ করে এমন তথ্যই পেয়েছেন গবেষকেরা।
চীনের উহানে গত ৩১ ডিসেম্বর অজ্ঞাত কারণে মানুষের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি শনাক্ত করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। নতুন ভাইরাসটির জিনোম সিকোয়েন্স করে চীনের বিজ্ঞানীরা গত ৯ জানুয়ারি জানান, এটি সার্স করোনাভাইরাসের গোত্রের। এর দুই দিনের মাথায়, ১১ জানুয়ারি সংক্রমণে প্রথম মৃত্যু দেখে বিশ্ব। 

কিন্তু করোনা সংক্রমণ আরও অনেক আগেই শুরু হয় বলে অনেক বিজ্ঞানীদের মনে সন্দেহ ছিল। অনেক দেশ তো এই সংক্রমণের তথ্য লুকানোর অভিযোগ এনেছে চীনের বিরুদ্ধে। সেই বিতর্কের মধ্যে প্রথম সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার নতুন সময়কালের কথা জানালেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন এবং ইউনিভার্সিটি অব রিইউনিয়ন আইসল্যান্ডের গবেষকেরা ভাইরাসটির বিবর্তন ও ভাইরাসের জিনগত পরিবর্তন পরীক্ষার কাজ শুরু করেন। এ জন্য তাঁরা গত জানুয়ারি থেকে সারা বিশ্ব থেকে ভাইরাসটির ৭ হাজারের বেশি জিনোম সিকোয়েন্স ক্রম সংগ্রহ করেন। গত মাসে গবেষণাটি সম্পন্ন করতে সক্ষম হন তাঁরা। জিনোম সিকোয়েন্স ক্রম ও করোনার বিবর্তন বিশ্লেষণ ও পরীক্ষার পরই প্রাদুর্ভাব শুরুর সম্ভাব্য সময় চিহ্নিত করতে সক্ষম হন গবেষকেরা। মানুষের শরীরে প্রবেশের পর করোনাভাইরাসের প্রধান প্রধান জিনগত পরিবর্তনও শনাক্ত করতে সক্ষম হন গবেষকেরা।

অবশ্য অতীতের সব গবেষণায় প্রথম সংক্রমণের ভিন্ন ভিন্ন তারিখ এসেছে। তবে চীনের সরকারি নথির তথ্যে গত ১৭ নভেম্বর প্রথম সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত হয় সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট। করোনাভাইরাসের প্রথম পুরো জিনোম সিকোয়েন্সের তথ্য গত জানুয়ারিতে প্রকাশ করে চীনের সাংহাইয়ের একটি গবেষণাগার। পরে ভাইরাসের জিনোম বিশ্লেষণের আরও তথ্য প্রকাশিত হয়। ওই সময় বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন, সার্স-কোভ-২ বাদুড় থেকে আসতে পারে এবং নভেম্বরের কোনো একসময় বাদুড় থেকে অন্য কোনো প্রাণী হয়ে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে জীবাণুটি।
কিন্তু যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা ভাইরাসের জিনগত পরিবর্তন ও বিবর্তনের পর্যায় নিয়ে গবেষণার পর প্রথম সংক্রমণের নতুন সময়কাল পেলেন।

Friday, May 1, 2020

আজ করোনায় ঢাকায় আরও এক পুলিশ সদস্যের মৃত্যু


মারা যাওয়া পুলিশ সদস্য নাজির উদ্দীন। ছবি: সংগৃহীত
করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে ঢাকায় পুলিশের আরও এক সদস্য মারা গেছেন। এ নিয়ে করোনায় চার পুলিশ সদস্যের মৃত্যু হলো।

সবশেষ মারা যাওয়া পুলিশ সদস্যের নাম নাজির উদ্দীন। তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শুক্রবার মারা যান।

নাজির উদ্দীন এসআই হিসেবে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রতিরক্ষা শাখায় কর্মরত ছিলেন। তাঁর করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয় গত ২৫ এপ্রিল। তিনি রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। 
নাজির উদ্দীনের গ্রামের বাড়ি পাবনা জেলার ভাংগুরা থানার কাজিটোলা গ্রামে।

নাজির উদ্দীনের জানাজা আজ সকালে রাজারবাগে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পুলিশের ব্যবস্থাপনায় তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। সেখানে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তাঁকে দাফন করা হবে।

দেশের পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৫৩৬ জন করোনায় আক্রান্ত হন। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১১৬ পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হন। ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) আক্রান্ত সদস্যের সংখ্যা ৩২৯। এ পর্যন্ত যে চারজন মারা গেছেন, তাঁরা সবাই ডিএমপির সদস্য। এর বাইরে দেশের আর কোথাও কোনো পুলিশ সদস্য করোনায় মারা যাননি।
গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে পুলিশের ১ হাজার ১১৭ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। আইসোলেশনে আছেন ১৪০ জন। আর করোনায় আক্রান্ত ৫২ জন পুলিশ সদস্যকে গতকাল সুস্থ ঘোষণা করা হয়েছে।

আগে পুলিশের যে তিন সদস্য মারা গেছেন, তাঁরা হলেন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল খালেক, ট্রাফিক কনস্টেবল আশেক মাহমুদ ও কনস্টেবল জসিম উদ্দিন।

এএসআই আবদুল খালেক মিরপুরে ডিএমপির পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট দক্ষিণ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি একাডেমির মসজিদে ইমামতি করতেন। গত ২৮ এপ্রিল তাঁর শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হলে তাঁকে আইসোলেশনে রাখা হয়। গতকাল ভোরে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও তিন মেয়ে রেখে গেছেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার ঝোপখালী গ্রামে।
কনস্টেবল আশেক মাহমুদ ডিএমপির ট্রাফিক উত্তর বিভাগে কর্মরত ছিলেন। জ্বর থাকায় ২৬ এপ্রিল বিএসএমএমইউতে তাঁর করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরের দিন করোনা পরীক্ষায় তাঁর কোভিড-১৯ পজিটিভ আসায় তাঁকে আইসোলেশনে রাখা হয়। তাঁর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি মারা যান। তাঁর গ্রামের বাড়ি জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার ইন্দ্রাবাড়ি গ্রামে। তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলে রেখে গেছেন। আশেক মাহমুদ রাজারবাগ ট্রাফিক পুলিশের ব্যারাকে থাকতেন।

গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জসিম উদ্দিন। তিনি কনস্টেবল ছিলেন। তাঁর বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচংয়ে। ওয়ারী ফাঁড়িতে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি করোনায় সংক্রমিত হন।

পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশন শাখা থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, করোনায় আক্রান্ত ইউনিটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ঢাকা মহানগরীতে। ঢাকায় গতকাল এক দিনেই ৪৮ জন আক্রান্ত হন।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকা মহানগর পুলিশে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা তাঁদের ভাবিয়ে তুলছে। মহানগর পুলিশের আটটি অপরাধ বিভাগ ছাড়াও পরিবহন, প্রোটেকশন, উন্নয়ন, গোয়েন্দা, স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপসহ ২২টি বিভাগের সদস্যরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত ব্যক্তিদের তালিকায় ১২ জন নারীও আছেন।

মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, পুলিশের যেসব সদস্য রাস্তায় টহল ও তল্লাশি করছেন, তাঁদের ভেতরে করোনা সচেতনতার অভাব রয়েছে। তাঁরা যেমন সামাজিক দূরত্ব মানছেন না, তেমনি নিজেদের সুরক্ষা পোশাক নিয়ে ঢিলেঢালা ভাব। তাঁরা একসঙ্গে দাঁড়িয়ে গল্পগুজব করছেন। আবার এক গাড়িতে পাশাপাশি বসে ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একজন কোনোভাবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে সহজেই তা অন্যকে সংক্রমিত করার আশঙ্কা থাকছে।
ঢাকায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ হচ্ছে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে। এখানে দুই শতাধিক পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত। পুলিশ সদস্যরা বলছেন, রাজারবাগে আবাসনব্যবস্থার কারণে তাঁদের মধ্যে করোনার সংক্রমণ হচ্ছে। সেখানে গাদাগাদি করে পুলিশ সদস্যদের থাকতে হচ্ছে। এতে একজন আক্রান্ত হলে তা সহজেই অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। রাজারবাগের পরিস্থিতিকে ভয়াবহ বলছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, অসাবধানতাবশত মানুষের কাছাকাছি চলে যাওয়ায় তাঁরা সংক্রমিত হয়েছেন। দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যদের সুরক্ষায় প্রথম থেকেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। সেগুলো এখন আরও জোরদার করা হচ্ছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র, সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, জনগণের সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে গিয়ে যাঁরা আত্মত্যাগ করেছেন, তাঁদের পাশে পুলিশ বাহিনী সর্বদা রয়েছে। বাহিনীর মনোবল দৃঢ় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, তাঁদের এই ত্যাগ পুলিশ বাহিনী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।


করোনার চিকিৎসায় নতুন মোড়, যে ওষুধে ৪ দিন আগেই সুস্থ হয়ে যাচ্ছে করোনা রোগী (ভিডিও)

করোনা চিকিৎসায় নতুন মোড় আনার দাবি করেছে মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান Gilead Science. তাদের দাবি, যে কোনো ওষুধের তুলনায় আক্রান্তদের দ্রুত সারিয়ে তুলছে অ্যান্টি ভাইরাল ট্যাবলেট Remdacivir। এতে কোভিড নাইনটিন রোগী সুস্থ হতে ৪ দিন সময় কম লাগছে। দ্রুত এ ট্যাবলেট অনুমোদন দিতে সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
 
Copyright © 2020 নরসিংদীর খবর ডট ব্লগ স্পট ডট কম. Designed by Babol