BREAKING NEWS
Showing posts with label করোনা ভাইরাস বাংলাদেশের খবর. Show all posts
Showing posts with label করোনা ভাইরাস বাংলাদেশের খবর. Show all posts

Thursday, May 21, 2020

আজ ২১/৫/২০ দেশে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭৭৩ জন সর্বোচ্চ মৃত্যু ২২জনের

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭৭৩ জন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। মারা গেছেন সর্বোচ্চ ২২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৯ জন ও নারী ৩ জন। এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত ২৮ হাজার ৫১১ জন করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। মারা গেছেন ৪০৮ জন।
দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানানো হয়।
বুধবার দেশে করোনায় সংক্রমিত ১ হাজার ৬১৭ জন শনাক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়। মারা গিয়েছিলেন ১৬ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২২ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগের ১ জন ও সিলেট বিভাগের ৩ জন ।
মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী ২ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১০ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৩ জন , ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ২ জন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ২ জন মারা গেছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৩৯৫ জন। এ নিয়ে সর্বমোট ৫ হাজার ৬০২ জন সুস্থ হয়েছেন।
ব্রিফিংয়ের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ হাজার ২৬২ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়। এ পযর্ন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ১১৪টি।
দেশে এখন ৪৭টি ল্যাবে (পরীক্ষাগার) করোনা পরীক্ষা করা হয়। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনায় সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্তের ঘোষণা আসে। ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
করোনার ঝুঁকি এড়াতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা অনলাইন ব্রিফিংয়ে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য আহ্বান জানান।

Saturday, May 9, 2020

করোনাকালে বাংলাদেশে জন্ম নেবে ২৪ লাখ শিশু: ইউনিসেফ

নোভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারিতে রূপ নেয়ার পর থেকে ৪০ সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশে আনুমানিক ২৪ লাখ শিশু জন্ম নেবে। আর চলমান লকডাউনের কারণে এসব শিশু ও তাদের মায়েরা স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়বে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।

সংস্থাটি বলছে, চলমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা আক্রান্ত রোগীদের স্বাস্থ্যসেবাকে প্রাধান্য দিচ্ছে এবং তা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। এর ফলে প্রসূতি ও নবজাতকদের স্বাস্থ্য সেবা যথাযথ গুরুত্ব না পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ইউনিসেফ বলছে, ১১ মার্চ কোভিড-১৯ কে মহামারি ঘোষণার পর থেকে প্রায় ১০ মাসে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ১১ কোটি ৬০ লাখ শিশুর জন্ম হবে।

সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রসূতি মা ও নবজাতকদের রূঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। বিশ্বজুড়ে লকডাউনসহ নিয়ন্ত্রণমূলক নানা পদক্ষেপ; মহামারি সামলাতে চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রগুলোর হিমশিম অবস্থা ও সরঞ্জামের ঘাটতি এবং ধাত্রীসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা কোভিড-১৯ রোগীদের সেবাদানে নিয়োজিত থাকায় শিশুর জন্মের সময় দক্ষ লোকবলের ঘাটতি থাকবে।
বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি তোমো হোযুমি বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা/ হাসপাতাল গুলোর ওপর চাপ সত্ত্বেও অন্তঃসত্ত্বা মা ও নবজাতকের জীবনরক্ষাকারী রুটিন সেবাসমূহ যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা মেনে অব্যাহত রাখা দরকার।

একই সঙ্গে অনাগত মাসগুলোতে অন্তঃসত্ত্বা মা ও অসুস্থ নবজাতকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে জীবনরক্ষায় সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করছে ইউনিসেফ।

এদিকে শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে ১৩ হাজার ১৩৪ জনের শরীরে। এদের মধ্যে মারা গেছেন ২০৬ জন এবং সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ২১০১ জন।

স্ত্রীর সঙ্গে জোর করে স্বামীও আইসোলেশনে

করোনাভাইরাসে সংক্রমিত এক নারীকে উপজেলার গোপীনাথপুর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় তার স্বামীও এখন জোর করে আইসোলেশন ইউনিটে স্ত্রীর পাশে থাকছেন।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) তথ্যটি নিশ্চিত করে গোপীনাথপুর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশন ইউনিটের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক শাহিন রেজা গণমাধ্যমকে বলেন, গতকাল বুধবার করোনায় আক্রান্ত ওই নারীকে আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। তখন তার স্বামী জানান, তারা একই সঙ্গে আইসোলেশনে থাকতে চান। পরে উপায় না পেয়ে স্বামীকেও সেখানে রাখা হয়েছে।


এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন সেলিম মিঞা বলেন, ওই নারীকে আইসোলেশন ইউনিটে আনা হলে তার স্বামীও সেখানে ঢুকে পড়েন। তাকে বের করে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, ওই আইসোলেশন ইউনিটে আরো একটি অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছে। সেখানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে দ্বিতীয় তলায় ভর্তি থাকা এক তরুণীর সঙ্গে তৃতীয় তলায় থাকা এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

দুটি ঘটনা নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন চিকিৎসক শাহিন রেজা।

Friday, May 8, 2020

করোনা আক্রান্তরা কখন ছাড়পত্র পাবেন

করোনায় আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতাল ছাড়া প্রসঙ্গে নির্দেশনা দিয়েছে কভিড-১৯ কারিগরী কমিটি । তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী একজন করোনা রোগীতে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র কখন দেয়া হবে সে প্রসঙ্গে সুপারিশ করা হয়েছে।

শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে করোনা ভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।


তিনি বলেন, প্যারাসিট্যামল ব্যতীত জ্বর সেরে গেলে। শ্বাসকষ্ট বা তার কোনো উপসর্গ যেমন শুষ্ক কাশি, কফ, নিশ্বাসের দুর্বলতা এগুলো লক্ষণের উন্নতি হলে। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পর পর দুটি আরটিপিসিআর পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ হলে।

তবে শুধু ন্যাজোফেরিয়াল সোয়াবের ক্ষেত্রে যদি দুটি আরটিপিসিআর পরীক্ষা করা সম্ভব না হয় উপরের লক্ষণগুলো যদি টানা ৭২ ঘণ্টা না থাকে তবে রোগীকে হাসপাতালের ছাড়পত্র দেয়া যাবে। ছাড়পত্র পেয়ে রোগীকে বাসায় গিয়ে অবশ্যয় নিজেকে ১৪ দিন আইসোলেশনে রাখতে হবে।

এ সময় ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ হাজার ৭০৭টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আগের কিছু মিলিয়ে মোট পরীক্ষা করা হয় ৫ হাজার ৯৪১টি নমুনা। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ১ লাখ ১১ হাজার ৪৫৪টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় আরও ৭০৯ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১৩ হাজার ১৩৪ জন। এ ছাড়া আরও ৭ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২০৬ জনে। যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে পাঁচ জন পুরুষ এবং দুজন নারী।

তিনি জানান, আক্রান্তদের মধ্যে আরও ১৯১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ২১০১ জন করোনা রোগী।

ডিসেম্বরে প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে বেশিরভাগ দেশই ভাইরাসটিতে তেমন পাত্তা দেয়নি। অনেক দেশই ধারণা করেছিল, এটি চীনা ভাইরাস এবং এর সংক্রমণ হয়তো ইউরোপ-আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়বে না। এজন্য সেখানকার দেশগুলো তেমন কোনো পদক্ষেপও নেয়নি। ফলও দিতে হচ্ছে তাদের। কারণ সংক্রমণ সংখ্যার দিক থেকে প্রথম দেশগুলোর তালিকার মাঝেই নেই চীন।

বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হলেও প্রথম মৃত্যুর খবর আসে ১৮ মার্চ। দিন দিন করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ায় নড়েচড়ে বসে সরকার। ভাইরাসটি যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয় সব সরকারি-বেসরকারি অফিস। কয়েক দফা বাড়ানো হয় সেই ছুটি, যা এখনও অব্যাহত আছে। পঞ্চম দফায় সেই ছুটি বাড়ানো হয় ৫ মে পর্যন্ত। তার আগেই আরেক দফা ছুটি বাড়িয়ে ১৬ মে পর্যন্ত করা হয়।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার তথ্যানুযায়ী শুক্রবার (৮ মে) সকাল পৌনে ৯টা পর্যন্ত  বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২ লাখ ৭০ হাজার ৭১১ জন। এছাড়া এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ৩৯ লাখ ১৬ হাজার ৩৩৮ জনের শরীরে।

শুক্রবার (৮ মে) সকাল ৯টা পর্যন্ত এ সংখ্যা নিশ্চিত করেছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার। এরইমধ্যে ২১২টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়েছে করোনা ভাইরাস।

আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৩ লাখ ৪৩ হাজার ৫৪ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ২৩ লাখ ২ হাজার ৫৭৩ জন। এদের মধ্যে ২২ লাখ ৫৩ হাজার ৬১৫ জনের শরীরে মৃদু সংক্রমণ থাকলেও ৪৮ হাজার ৯৫৮ জনের অবস্থা গুরুতর।

আজ নতুন আক্রান্ত ৭০৯ জন এবং মোট আক্রান্ত ছাড়াল ১৩ হাজার, মৃত্যু দুই শতাধিক

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৭০৯ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১৩ হাজার ১৩৪। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২০৬ জনে। শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে করোনা ভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

বিশ্বব্যাপী মহামারি রূপ নেয়া করোনাভাইরাসে প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। বাংলাদেশেও আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

 তিনি জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ হাজার ৭০৭টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আগের কিছু মিলিয়ে  মোট পরীক্ষা করা হয় ৫ হাজার ৯৪১টি নমুনা। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ১ লাখ ১১ হাজার ৪৫৪টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় আরও ৭০৯ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১৩ হাজার ১৩৪ জন। এ ছাড়া আরও ৭ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২০৬ জনে। যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে পাঁচ জন পুরুষ এবং দুজন নারী।

 নাসিমা সুলতানা আরও জানান, আক্রান্তদের মধ্যে আরও ১৯১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ২১০১ জন করোনা রোগী।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আরও ৭০৬ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে বলে জানানো হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে। এছাড়া গতকাল বুলেটিনে করোনায় মৃতের সংখ্যা না জানিয়ে পরে বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েব সাইটে একদিনে দেশে সর্বোচ্চ ১৩ জনের মৃত্যুর খবর প্রকাশ করা হয়।

ডিসেম্বরে প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে বেশিরভাগ দেশই ভাইরাসটিতে তেমন পাত্তা দেয়নি। অনেক দেশই ধারণা করেছিল, এটি চীনা ভাইরাস এবং এর সংক্রমণ হয়তো ইউরোপ-আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়বে না। এজন্য সেখানকার দেশগুলো তেমন কোনো পদক্ষেপও নেয়নি। ফলও দিতে হচ্ছে তাদের। কারণ সংক্রমণ সংখ্যার দিক থেকে প্রথম দেশগুলোর তালিকার মাঝেই নেই চীন।

বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হলেও প্রথম মৃত্যুর খবর আসে ১৮ মার্চ। দিন দিন করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ায় নড়েচড়ে বসে সরকার। ভাইরাসটি যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয় সব সরকারি-বেসরকারি অফিস। কয়েক দফা বাড়ানো হয় সেই ছুটি, যা এখনও অব্যাহত আছে। পঞ্চম দফায় সেই ছুটি বাড়ানো হয় ৫ মে পর্যন্ত। তার আগেই আরেক দফা ছুটি বাড়িয়ে ১৬ মে পর্যন্ত করা হয়।
করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার তথ্যানুযায়ী শুক্রবার (৮ মে) সকাল পৌনে ৯টা পর্যন্ত  বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২ লাখ ৭০ হাজার ৭১১ জন। এছাড়া এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ৩৯ লাখ ১৬ হাজার ৩৩৮ জনের শরীরে।

শুক্রবার (৮ মে) সকাল ৯টা পর্যন্ত এ সংখ্যা নিশ্চিত করেছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার। এরইমধ্যে ২১২টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়েছে করোনা ভাইরাস।

আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৩ লাখ ৪৩ হাজার ৫৪ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ২৩ লাখ ২ হাজার ৫৭৩ জন। এদের মধ্যে ২২ লাখ ৫৩ হাজার ৬১৫ জনের শরীরে মৃদু সংক্রমণ থাকলেও ৪৮ হাজার ৯৫৮ জনের অবস্থা গুরুতর।

করোনার সংক্রমণ দ্বিতীয় মাসেই ৯৮%

প্রতীকী ছবিদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দিন দিন বাড়ছে। এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের ৯৮ শতাংশই শনাক্ত হয়েছে সংক্রমণের দ্বিতীয় মাসে। আজ শুক্রবার দেশে করোনা (কোভিড-১৯) সংক্রমণ শনাক্তের দুই মাস পূর্ণ হচ্ছে।

বিশ্বে যেসব দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি, সেসব দেশেও প্রথম দুই মাসে মোট আক্রান্তদের ৯৮ শতাংশের বেশি শনাক্ত হয়েছিল দ্বিতীয় মাসে।

বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, বাংলাদেশে এখনো সংক্রমণের প্রথম ঢেউ চলছে। গত এক মাস পুরোটাই ছিল সরকারি ছুটি বা অনেকটা লকডাউন (অবরুদ্ধ) পরিস্থিতির মধ্যে। এর মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। ইতিমধ্যে সীমিত পরিসরে পোশাক কারখানা চালু হয়েছে। দোকানপাটও খুলে দেওয়া হচ্ছে। ফলে নতুন ভাইরাসের সংক্রমণ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আক্রান্তের শীর্ষে থাকা দেশগুলোতেও সংক্রমণের তৃতীয় মাসে গিয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে দেখা গেছে। বাংলাদেশেও রোগী বাড়ছে। তবে ওই সব দেশে সংক্রমণের দুই মাসের মাথায় আক্রান্তের সংখ্যা বাংলাদেশের চেয়ে বেশি ছিল। ওই দেশগুলোতে শনাক্তের পরীক্ষাও অনেক বেশি হয়েছে।

দেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্তের খবর জানানো হয় ৮ মার্চ। এর এক মাসের মাথায় ৮ এপ্রিল দেশে মোট রোগী ছিলেন ২১৮ জন। ওই সময় পর্যন্ত সংক্রমণ পাওয়া গিয়েছিল ২২ জেলায়। সংক্রমণ ঠেকাতে ২৬ মার্চ থেকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। প্রথম সংক্রমণ শনাক্তের দুই মাসের মাথায় এসে দেশে মোট রোগী শনাক্ত হন ১২ হাজার ৪২৫ জন। দ্বিতীয় মাসে আক্রান্ত বেড়েছে ১২ হাজার ৬০৭ জন, যা মোট শনাক্তের ৯৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। গত এক মাসে নতুন ৪২টি জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়েছে।
দেশে গতকাল পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে মোট ১৯৯ জন মারা গেছেন। এখন পর্যন্ত দেশে করোনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৬০ শতাংশ। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৯১০ জন। গতকাল পর্যন্ত সুস্থতার হার ১৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে এখনো সংক্রমণের প্রথম ঢেউ চলছে। সামনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে দুই মাস শেষে মোট আক্রান্ত ছিলেন ১৫ হাজার ২১৯ জন। মোট আক্রান্তের ৯৯ দশমিক ৯০ ভাগই আক্রান্ত হয় দ্বিতীয় মাসে। ইতালিতে সংক্রমণের দুই মাসে মোট আক্রান্ত ছিলেন ৯২ হাজার ৪৭২ জন। এর ৯৮ দশমিক ৭৮ শতাংশই দ্বিতীয় মাসে আক্রান্ত হয়। স্পেনে দ্বিতীয় মাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন ওই সময় পর্যন্ত মোট আক্রান্তের ৯৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ। যুক্তরাজ্যে প্রথম দুই মাসে মোট আক্রান্ত ছিলেন ২৫ হাজার ১৫৪ জন। এর ৯৯ দশমিক ৮৫ শতাংশই আক্রান্ত হয় দ্বিতীয় মাসে।

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে সংক্রমণ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল তৃতীয় মাসে। প্রথম দুই মাসের তুলনায় তৃতীয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ৯৭ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যে ৮৫ শতাংশ রোগী বেড়েছিল। স্পেনে এটি ছিল ৫৫ ও ইতালিতে ৫৪ শতাংশ।

পরীক্ষা বাড়ছে, রোগীও বাড়ছে

দেশে শুরুতে শুধু রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পরীক্ষা সীমিত ছিল। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে পরীক্ষাকেন্দ্র বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ৯ এপ্রিল প্রথম এক দিনে ১০০-এর বেশি রোগী শনাক্ত হয়। ১০ দিন ধরে প্রতিদিন ৫০০-এর বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে তিন দিন ধরে দৈনিক শনাক্ত হচ্ছে ৭০০-এর বেশি রোগী।

২৩ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট ৩৬ হাজার ৯০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। এখন ৩৪টি প্রতিষ্ঠানে নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। গতকাল পরীক্ষাকৃত মোট নমুনার সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে। গতকাল পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৫ হাজার ৫১৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা করা নমুনার ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ পজিটিভ বা সংক্রমিত। যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, যুক্তরাজ্য ও ইতালিতে পজিটিভ নমুনা পাওয়ার হার ৯ থেকে ১৬ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ৭০৬, মৃত্যু ১৩

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বুলেটিনে গত ২৪ ঘণ্টার হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরেন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ হাজার ৮৬৭টি নমুনা পরীক্ষা করে ৭০৬ জনের দেহে সংক্রমণ পাওয়া যায়। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত দাঁড়ায় ১২ হাজার ৪২৫। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১৩০ জন।

গতকালের বুলেটিনে ২৪ ঘণ্টার মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়নি। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ জন মারা গেছেন। এঁদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ, ৫ জন নারী। ৬ জন ষাটোর্ধ্ব, ৪ জনের বয়স ৫১-৬০ বছরের মধ্যে, ২ জন ৪১-৫০ বছরের মধ্যে। ১ জনের বয়স ১১-২০ বছরের মধ্যে, তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন।
ঢাকা ও আশপাশে সংক্রমণ বেশি

শুরুতে সংক্রমণ সীমিত ছিল বিদেশফেরত এবং তাঁদের সংস্পর্শে আসা মানুষদের মধ্যে। ২৬ মার্চের আগ পর্যন্ত আক্রান্ত ৩৯ জনের মধ্যে ১৪ জন ছিলেন ৮টি দেশ থেকে আসা ব্যক্তি। আর ২৩ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন বিদেশফেরত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে গিয়ে। বাকি দুজন কীভাবে সংক্রমিত হয়েছিলেন, তা অজানা। ২৫ মার্চ বলা হয়, সীমিত পরিসরে লোকাল ট্রান্সমিশন (স্থানীয়ভাবে সংক্রমণ) হয়ে থাকতে পারে।

৫ এপ্রিল রাজধানীর টোলারবাগ ও বাসাবো, নারায়ণগঞ্জ, মাদারীপুর (শিবচর) এবং গাইবান্ধা (সাদুল্যাপুর)—এই পাঁচটি জায়গাকে সংক্রমণের ক্লাস্টার (কাছাকাছি একই জায়গায় অনেক আক্রান্ত) হিসেবে চিহ্নিত করে আইইডিসিআর। এই পাঁচটি জায়গার চারটিতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলেও নিয়ন্ত্রণের পুরোপুরি বাইরে চলে যায় নারায়ণগঞ্জ। ৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ লকডাউন ঘোষণা করা হয়। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। সেখান থেকে অনেকে ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন জেলায়। ১০ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জকে সংক্রমণ ছড়ানোর কেন্দ্রস্থল হিসেবে চিহ্নিত করে আইইডিসিআর।
শুরু থেকে রাজধানীতে আক্রান্ত ছিলেন বেশি। এখনো মোট আক্রান্তের অর্ধেকের বেশি রাজধানীর বাসিন্দা। নারায়ণগঞ্জে আক্রান্ত হাজার ছাড়িয়েছে। এ ছাড়া গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ঢাকা, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ জেলার প্রতিটিতে আক্রান্ত ১০০ ছাড়িয়ে গেছে।

আইইডিসিআরের পরামর্শক ও রোগতত্ত্ববিদ মুশতাক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, দেশে মহামারির প্রথম ঢেউ চলছে। যুক্তরাষ্ট্রে চলছে দ্বিতীয় ঢেউ। একদিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের সঙ্গে দেশের সংক্রমণের ধারার মিল রয়েছে। আবার অন্যদিক থেকে তুলনা করা যায় না। কারণ, ইতালির লোম্বার্ডি অঞ্চলে আর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ঘনীভূত মহামারি দেখা গেছে। তবে ইতিমধ্যে বাংলাদেশের সব জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। এই রোগতত্ত্ববিদের মতে, ঈদ সামনে রেখে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তাতে ঝুঁকি বাড়ছে।

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ৫০৫৪ জন নার্স নিয়োগ

কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী হাসপাতালগুলোতে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে পদায়নের জন্য ৫ হাজার ৫৪ জন নার্সকে সাময়িকভাবে নিয়োগ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। তাদের সবাইকে আগামী ১৩ মের মধ্যে নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের নিয়োগের কথা জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, গত ২৫ এপ্রিল করোনাভাইরাস মোকাবেলায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বরাবর ২ হাজার চিকিৎসক এবং ৬ হাজার নার্স নিয়োগের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ কর্ম কমিশন কর্তৃক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিকট সুপারিশকৃত নার্সের তালিকা থেকে আজ এই ৫০৫৪ জন নার্সকে সাময়িকভাবে পদায়ন করা হল। আগামী ১২ মে'র মধ্যেই ২ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের কাজও সম্পন্ন করা হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৮ সালের নার্স নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ৫ হাজার ৫৪ জন প্রার্থীকে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের অধীনে সিনিয়র স্টাফ নার্স পদে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ এর দশম গ্রেডে ১৬ হাজার টাকা-৩৮৬৪০ বেতনক্রমে রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে সাময়িকভাবে নিয়োগ প্রদান করা হল।

নার্সদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে কিছু শর্তও দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে:

(১). প্রার্থীদের বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। প্রার্থীরা বাংলাদেশের স্থায়ী বাসিন্দা না হলে নিয়োগ বাতিল হবে।
(২). বাংলাদেশের নাগরিক নন এমন কাউকে বিয়ে করা যাবে না বা তাদের বিয়ে করতেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া যাবে না।
(৩). সাময়িক নিয়োগের পর স্বাস্থ্য পরীক্ষা হবে। তাতে অনুত্তীর্ণ হলে বা সে পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকলেও নিয়োগ বাতিল হবে।
(৪). উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দাখিল করা প্রতিবেদন সন্তোষজন না হলে প্রার্থিতা বাতিল হবে।
(৫). সাময়িক নিয়োগ পাওয়া প্রার্থীদের দুই বছরকাল শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করতে হবে। সরকার চাইলে শিক্ষানবিশকাল আরও বাড়াতে পারে। শিক্ষানবিশকালে কোনো কারণে চাকরিতে অনুপযোগী বলে বিবেচিত হলে কোনো কারণ দর্শানো নোটিশ ছাড়াই ও পিএসসির পরামর্শ ব্যতিরেকেই তাকে অপসারণ করতে পারবে।
(৬). শিক্ষানবিশকাল সন্তোষজনকভাবে অতিক্রান্ত হলে তাকে চাকরিতে স্থায়ীকরণ করা হবে।
(৭). ১৩ মে তারিখের মধ্যে কাজে যোগ না দিলে ধরে নেওয়া হবে প্রার্থী এ চাকরিতে সম্মত নন। তার সাময়িক নিয়োগও তখন বাতিল হয়ে যাবে।
(৮). প্রার্থীকে একজন জামানতদারসহ ৩০০ টাকা মূল্যের নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে বন্ড সম্পাদন করতে হবে এ মর্মে, যদি শিক্ষানবিশকালে বা শিক্ষানবিশকাল উত্তীর্ণ হওয়ার তিন বছরের মধ্যে চাকরিতে ইস্তফা দেন, তাহলে শিক্ষানবিশকালে তিনি যে বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন তা ও তার প্রশিক্ষণের জন্য ব্যয় হওয়া সমুদয় অর্থ তিনি ফেরৎ দিতে বাধ্য থাকবেন।
(৯). প্রার্থীর ইস্তফা সরকার কর্তৃক গৃহীত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি কাজে অনুপস্থিত থাকতে পারবেন না। যদি অনুপস্থিত থাকেন তবে তার নিকট সরকারের প্রাপ্য সমুদয় অর্থ পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি অ্যাক্ট -১৯৯৩ এর বিধান অনুসারে আদায় করা হবে। সরকারি কর্মচারী বিধিমালা-২০১৮ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
(১০). এ চাকরিতে যোগদানের জন্য তিনি কোনো ভ্রমণ ভাতা বা দৈনিক ভাতা পাবেন না।

করোনাভাইরাস: ৭ তারিখে নতুন ৭০৬ জনসহ মোট আক্রান্ত ১২৪২৫ জন

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন ৭০৬ জন, যা গতকালের তুলনায় ৮৬ জন কম। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত করোনা পজিটিভ মোট শনাক্ত হলেন ১২ হাজার ৪২৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১৩০ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হলেন ১ হাজার ৯১০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর বিষয়টি পরে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা ২টা ৩৮ মিনিটে দেশের কোভিড-১৯ সম্পর্কিত সার্বিক পরিস্থিতি জানাতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিন অনলাইনে প্রচারিত হয়। বুলেটিনে ভিডিও কনফারেন্সে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা।

অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৫ হাজার ৮৬৭টি। এখন পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৫১৩টি। তিনি আরো জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ১০৭ জনকে, এখন পর্যন্ত মোট আইসোলেশনের সংখ্যা ১ হাজার ৭৭১ জন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৪৩ জন, এখন পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন ৯৫০ জন।

নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম মিলে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ২ হাজার ৩৩১ জনকে। এখন পর্যন্ত মোট ২ লাখ ৪ হাজার ৩১ জনকে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। কোয়ারেন্টিন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়া পেয়েছেন ২ হাজার ৯৬৭ জন, এখন পর্যন্ত মোট ছাড়া পেয়েছেন ১ লাখ ৬৩ হাজার ৫২৮ জন। বর্তমানে মোট কোয়ারেন্টিনে আছেন ৪০ হাজার ৫০৩ জন।
 
Copyright © 2020 নরসিংদীর খবর ডট ব্লগ স্পট ডট কম. Designed by Babol